মঙ্গলবার । ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩২

মঞ্জুতেই আস্থা রাখলেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনা সিটি করপোরেশন পরিচালনায় ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জুর ওপর আস্থা রাখলেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সোমবার সারাদেশের ছয় সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ করে সরকার। খুলনা সিটি প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়েছেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তে খুশি বিএনপির নেতাকর্মীরা।

প্রবীণ নেতারা বলছেন, বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া খুলনায় দল পরিচালনার জন্য নজরুল ইসলাম মঞ্জুর ওপর আস্থা রেখেছিলেন। ৩৭ বছর ধরে খুলনায় দলকে সুসংগঠিত এবং ২০০৮ সালের নির্বাচন জয় এনে মঞ্জু সব সময় আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। এবার তাঁর ছেলে এবং বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আস্থার প্রতিদান দিবেন তিনি।

দলের সিনিয়র নেতা ও কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৭৯ সালে ছাত্রদল থেকে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ১৯৮৭ সাল থেকে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, ১৯৯২ সাল থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সাল থেকে ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত একযুগ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে খুলনা বিএনপি এবং নজরুল ইসলাম মঞ্জু যেন এক নামেই জড়িয়ে আছেন।

এর মাঝে ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনা-২ আসন থেকে জয়ী হন। ২০১৮ সালের কেসিসির নির্বাচনে বিএনপি থেকে প্রার্থী করা হয়েছিল তাকে। ওই নির্বাচনে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট ও ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। প্রশ্নবিদ্ধ ওই নির্বাচনেও ১ লাখ ৯ হাজার ২৫১ ভোট পেয়েছিলেন মঞ্জু।

২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর খুলনা মহানগর বিএনপির কমিটি ভেঙে দিলে চতুর্মুখী চাপে পড়েন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। খুলনা মহানগর, ৫টি থানা এবং ৩১টি ওয়ার্ড থেকে তার অনুসারীদের বাদ দেওয়া হয়। তারপরও তিনি বিএনপি ছাড়েননি। দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন পৃথকভাবে। এজন্য তার ওপর হামলা এবং গাড়ি ভাংচুর করেছে দলের প্রতিপক্ষরা। তারপরও তিনি মাঠে পড়ে ছিলেন। গত নির্বাচনে খুলনা-২ আসনে মনোনয়ন দিয়ে তার কষ্টের প্রতিদান দিয়েছিল কেন্দ্রীয় বিএনপি। কিন্তু দলের কিছু নেতার বিশ্বাস ভঙ্গের কারণে নিজ ঘাটিতে পরাজিত হয় বিএনপি। এতে নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়ে। তবে সোমবারের ঘোষণায় তাদের মাঝে আবার আশার আলো দেখা দিয়েছে।

খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা জাফরুল্লাহ খান সাচ্চু বলেন, ‘সুসময়-দুঃসময় মাঠে-ময়দানে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকেই দেখা যায়। তার পরাজয়ে নেতাকর্মীরা আফসোস করেছে এবং চোখের পানি ফেলেছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তাকে সিটি প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়ে কর্মীদের ভালোবাসার প্রতিদান দিলেন’।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনে স্থবিরতা চলছিল। আমলা দিয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাজ করানো যায় না। খুলনা সিটির উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে প্রধানমন্ত্রী সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা আশা করি মঞ্জুর ডায়নামিক নেতৃত্বে খুলনা সিটি দ্রুত ঘুরে দাড়াবে।

খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মাহাবুব কায়সার বলেন, ‘নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সঙ্গে নির্বাচনে যা করা হয়েছিল তা অন্যায়। পার্টির চেয়ারম্যান সেই অন্যায়ের বদলা হিসেবে তাকে প্রশাসক বানিয়েছেন। আমরা চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা মনে করি, খুলনার উন্নয়নের জন্য মেয়র বা প্রশাসক হিসেবে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর মতো নেতাই প্রয়োজন।

খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান মুরাদ বলেন, একজন সৎ, যোগ্য, পরীক্ষিত ও গণমানুষের নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তাকে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়ায় খুলনাবাসী আনন্দিত। তাকে কেসিসি’র প্রশাসকের দেওয়ায় আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে কৃতজ্ঞ। খুলনার মানুষের প্রত্যাশিত উন্নয়নে নজরুল ইসলাম মঞ্জু সততার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করবেন সেই প্রত্যাশা করছি।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন